বাংলাদেশের কর্মপরিবেশ এবং আমাদের দায়বদ্ধতা
এলাকা, জেলা, দেশের গন্ডি পেরিয়ে পরবাসে নানা পেশায় নিয়োজিত
হয়ে আমরা যেমন নিজেদের স্বাবলম্বি করছি অন্যদিকে তেমনি কোম্পানির সাথে সাথে দেশের
সুনামও বৃদ্ধি করছি। প্রবাসে অনেকেই সুপারভাইজর বা উদ্ধতন পদে কাজ করছে। অনেকে
সেফটি সুপারভাইজর, অফিসার হিসেবেও কর্মরত। সবার লক্ষ্য একটাই – নিরাপদে কর্ম
সম্পাদন। সামান্য একটু আঘাতে বা আহত হলেই কত রকমের
জবাবদিহিতা এসব দেশে। প্রবাসে দেশি বিদেশি লোকদের নিরাপত্তা বিধানে আমরা সদা
সচেষ্ট। পরবাসীদের কাছে দেশের প্রতি টান মনে হয় একটু বেশিই। আর তাই ভাবতেই
কষ্ট হয় যখন দেখি নিজ ভূমে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনায় লোকজন মারা যাচ্ছে, কখনো বিল্ডিং
ধসে আবার কখন পোশাক শিল্পে আগুন লেগে। জাহাজ ভাঙ্গার কাজে নিয়োজিত লোকদের আঘাতের
বা মৃত্যুর হিসাব তো লোক চক্ষুর অন্তরালেই থেকে যাচ্ছে।
শুধুমাত্র পোশাক শিল্পেই
যতলোক মারা গেছে তার চিত্র টা এরুপ –
যে সকল দুর্ঘটনার
রিপোর্ট করা হয়েছে তার ভিত্তিতে উপরে প্রদত্ত সংখ্যা নির্নয় হয়েছে। যদিও আইন
অনুযায়ি সকল দুর্ঘটনার রিপোর্ট করা আবশ্যক কিন্তু তার হিসেব কে রাখে। জাহাজ ভাঙ্গা
শিল্পের কর্ম পরিবেশের অবস্থা অনেক টা নিচের ছবির মত।
Bangladesh, The
Factories Rules, 1979 বলবত থাকলেও এত বছরে তার প্রয়োগ বা মেনে
চলা হয়নি বলেই ধরা যায়। শিপব্রেকিং এর কথা বললেই এখন সবাগ্রে চলে আসে বাংলাদেশের
নাম। ২০১০ এর চিত্রটা এরুপঃ
অসংখ্য জাহাজ সমূদ্র সৈকতে ভীরে আছে ভাঙ্গার অপেক্ষায়। এগুলো শুধু দুর্ঘটনারই
কারন হচ্ছে না বরং পরিবেশেরও অনেক ক্ষতি করছে।
Bangladesh Labor Law 2006 কর্মীদের নিরাপদ কর্ম পরিবেশের
কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রাপ্যতা নেই বললেই চলে। নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করি,
কিছুই কি করার নেই আমার। দু’চার দিন পত্রিকায় শিরোনাম, ব্লগে ঝর তুলে, ফেসবুকে স্ট্যাটাস
লিখে আর প্রোফাইলে কালো ফিতা ঝুলালেই কি দায়িত্ব ফুরিয়ে যায়? আমি কি পারি না এর
চেয়ে বেশি কিছু করতে? আমাদের কি এর চেয়ে বেশি কিছুই করার নাই? হয়তো একক ব্যক্তি
হিসেবে কিছু করার পরিধি সীমিত কিন্তু সমিষ্টিগত ভাবে একক ব্যক্তি যোগে অনেক কিছুই
করা সম্ভব।
অবস্থার উন্নতির জন্য আমার যা করতে পারি –
১) সকল শ্রেনীর লোকদের সমন্নয় ঘটানো।
২) সচেতনতা মূলক পোষ্টার, গল্প প্রকাশ।
৩) আইনের যথাযথ প্রয়োগে উদ্ধত করা।
৪) জরুরি অবস্থায় করনিয় সমন্ধে শিক্ষাদান।
৫) অগ্নি নির্বাপক সরঞ্জামের ব্যবস্থা এবং ব্যবহার করার জন্য প্রশিক্ষণ।
৬) কোম্পানি গুলোকে তাদের বাজেটে নিরাপত্তা বিষয়ে বরাদ্দ রাখা।
৭) উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মীদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা।
৭) হাইকমিশনগুলো পারে বিদেশে অবস্থানরত সেফটি পেশায় নিয়োজিতদের দেশের সেফটি
ও পরিবেশের উন্নয়নের সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করতে।
কিছু কিছু এনজিও এগিয়ে এসেও থেমে গেছে। সম্মিলিত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রয়াস ছাড়া
অবস্থার উন্নতি অনেক দূরুহ। Bangladesh Occupational Safety, Health
and Environment Foundation (OSHE) কাজ করে যাচ্ছে। দেরিতে হলেও Alliance
for Bangladesh Worker Safe ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মপরিবেশের উন্নয়নে
এগিয়ে এসেছে।
সকল পক্ষের একটু সচেতনতা আর সহযোগিতাই পারে এ সকল দুর্ঘটনার প্রতিকার করতে।
হয়তো হঠাত করে সব দুর্ঘটনা বন্ধ করা যাবে না কিন্তু দুর্ঘটনার প্রভাব অনেকাংশে
কমিয়ে আনতে।
কাউকে না কাউকে এ উদ্যোগ
গ্রহন করতে হবেই। সম্মিলিত উদ্যোগের প্রথম পদক্ষেপ তবে শুরু হোক ই। প্রবাসীরা
এগিয়ে আসুক এ উদ্যোগে। এতে করে কর্মীরা
পাবে নিরাপদ কর্মপরিবেশ। আর আমরাও আমাদের দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পাব। নিরাপদ
কর্মপরিবেশ পাবার অধিকার আমার, আপনার, সকলের।
No comments